
“ভোটকেন্দ্র কোথায় এখনও সেটা জানি না। আগে তো বাসায় স্লিপ দিয়ে যেত। এবার কেউ ভোটার স্লিপ দিয়ে যায়নি। এমনিতে সবসময়ই লেডি দেহলভি স্কুলে ভোট দিয়েছি। হয়তো ওই কেন্দ্রই হবে। সমস্যা নাই, সার্চ করলেই জানা যাবে”—কথাগুলো বলছিলেন ভোটার সেলিনা আক্তার।
শুধু সেলিনা আক্তার নন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে যখন আর ১৬ ঘণ্টারও কম সময় বাকি, তখন গুগল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে ভোটারদের হাজারো প্রশ্ন। কেউ খুঁজছেন ভোটকেন্দ্র, কেউবা ভোটার নম্বর। এবার ভোটারদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটসহ মোট দুটি ভোট দিতে হবে। এছাড়া ভোটের সময়সূচিতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন।
গুগলে ভোটারদের প্রশ্নবন্যা
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে গুগল ট্রেন্ডে ‘ইলেকশন ২০২৬’, ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’, ‘ভোটার স্লিপ বিডি’, ‘ভোটার নম্বর চেক’—এমন নানা শব্দ লিখে সার্চ করার প্রবণতা বেড়েছে। ভোটার স্লিপ না পাওয়ার কারণে অনেকেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কেন্দ্রের তথ্য জেনে নিচ্ছেন।
ভোটের সময় ও ব্যালট পেপার
এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটাররা এবার দুটি ব্যালট পেপার পাবেন—সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদাকালো এবং গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালট। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, দুটি ব্যালটে সিল দেওয়ার পর তা একই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
দল ও ভোটার পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (প্রতীক: শাপলা কলি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এবং ভোটে নেই জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ। এবার মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার; এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার।
প্রযুক্তিগত সহায়তা
ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানতে নির্বাচন কমিশন অ্যাপ, হটলাইন ও এসএমএস সেবা চালু করেছে। ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ অথবা ইসির ওয়েবসাইটে এনআইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে কেন্দ্রের নাম ও ম্যাপসহ বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করে বা এসএমএস করেও তথ্য পাওয়া যাবে।
মোবাইল ফোন ও নিরাপত্তা
ভোটকেন্দ্রের ভেতর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা ও ছবি তোলা যাবে, তবে গোপন কক্ষে (বুথে) মোবাইল ব্যবহার বা সেলফি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ এই নিয়ম ভাঙলে বা ছদ্মবেশে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক বিচার বা জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
যানচলাচলে বিধিনিষেধ
নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে জরুরি সেবা ও অনুমোদিত যান এর আওতামুক্ত থাকবে।
ফলাফল ও শপথ
একই দিনে দুটি ভোট হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার বিকেল নাগাদ অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যাবে। এদিকে সংসদ কার্যকর না থাকায় নবনির্বাচিতদের শপথ কে পড়াবেন—তা নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি (সম্ভবত প্রধান বিচারপতি বা সিইসি) শপথ পড়াতে পারেন।
