ভোটের আমেজে পটিয়ায় ছন্দপতন, মারধরে আহত দাঁড়িপাল্লার ৩ সমর্থক


চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে একটি কেন্দ্রের বাইরে কথা-কাটাকাটির জের ধরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের পূর্ব রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। এতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তিন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের বাইরে বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রুহান (২১) ও মো. ইব্রাহিম (৩৮) নামের দুই ব্যক্তিসহ তিনজনকে মারধর করা হয়। এতে রুহান ও ইব্রাহিম মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। আহত অপর ব্যক্তির নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খবর পেয়ে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বত সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. তাহমিদ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছে তারা পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং জটলা পাকানো লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, কথা-কাটাকাটির জের ধরে বিএনপির লোকজন জামায়াতের তিনজনকে মারধর করেছে। তবে এই ঘটনার কোনো প্রভাব মূল ভোটগ্রহণে পড়েনি এবং কেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

এ বিষয়ে কেলিশহর পূর্ব রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের সীমানার বাইরে ঘটেছে। তার কেন্দ্রের ভেতরে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শাহজাহান মহিউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির লোকজন তাদের কয়েকজন সমর্থককে মারধর করেছে এবং এতে তাদের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। অন্যদিকে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি খোরশেদ আলম জানান, পটিয়ায় সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত। তবে কেলিশহরের মারধরের ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুপুর পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে টহল টিম, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পটিয়ার ১১৩টি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের ভিড় বাড়তে থাকে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৮টি কেন্দ্র ঘুরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজারের কিছু বেশি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এ আসনে ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।