ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা, সেনা হস্তক্ষেপে বাড়ল ভোটের হার


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাকলিয়া এলাকায় ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে সেনাবাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অদূরে ডিসি রোডের সরু গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানার বড় মিয়া মসজিদ এলাকার পাশে অবস্থিত এই ভবনটিতে তিনটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সকালের দিকে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক থাকলেও ঘণ্টাখানেক পর সরু গলিতে কয়েকজন যুবক অবস্থান নিয়ে ভোটারদের থামানোর চেষ্টা করে। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন নারী ভোটার ফিরে যেতে বাধ্য হন।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তিনটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাসদস্যরা প্রথমে জটলা পাকানো যুবকদের সরে যেতে বলেন। তাতে সাড়া না দেওয়ায় লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় এবং ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ভোটার জানান, সকাল ১০টার পর ভোট দিতে এসে তারা বাধার মুখে পড়েন। এক নারী ভোটার বলেন, “গলিতে ঢুকতেই কয়েকজন বলে ওদিকে যাওয়া যাবে না। পরে সেনাবাহিনী আসলে আমরা ভোট দিতে পারি”।

সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের পর ভোটগ্রহণের হারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্র-১ এ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ভোট পড়েছিল ৩৩.৩৫%, যা দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বেড়ে দাঁড়ায় ৪০.০১% এ। কেন্দ্র-২ এ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ভোটের হার বেড়ে ৩৩% হয় এবং কেন্দ্র-৩ এ দুপুর ২টায় তা ৩৯.১৬% এ পৌঁছায়। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাধা অপসারণের ফলেই ভোটারদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।

দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রগুলো ঘুরে নারী-পুরুষ ও বয়স্ক ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।