
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে একটানা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। বর্তমানে ১৪০টি কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছে এবং গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে। ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপির সারোয়ার আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর মো. নুরুল আমিন, সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জুলফিকার আলী মান্নান, জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ কবির ও জিন্নাত আকতার।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে। একটিতে সংসদীয় আসনের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক এবং অন্যটিতে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল।
ফটিকছড়ি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮০ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৪২ জন, নারী ২ লাখ ২৮ হাজার ৮৪১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটার রয়েছেন। এছাড়া পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ৭ হাজার ২৫৫টি। মোট ১৪০টি ভোটকেন্দ্রের ৯০০টি ভোটকক্ষে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার ফলাফলের পালা, এখন গণনা চলছে।”
