চকরিয়া-পেকুয়ায় ভোট গ্রহণ শেষে চলছে গণনা, ফলাফলের অপেক্ষায় জনতা


কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন দু-একটি ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনা শুরু হয়েছে।

ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে বিকেল ৫টার পর থেকে কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অসমর্থিত সূত্রে কিছু ফলাফল আসতে শুরু করেছে। তবে সরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।

সরেজমিনে চকরিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিশেষ করে নারী ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুরের দিকে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায় এবং ভোটার উপস্থিতি কমে আসে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বেশিরভাগ কেন্দ্রে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইসলামনগর শহীদ হোছাইন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শাহাদাত হোছাইন জানান, ওই কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ৪৭৫ জন ভোটারের মধ্যে সকাল পৌনে ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ৫১৬টি ভোট কাস্ট হয়েছে। অন্যদিকে দুপুর ১টার দিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রসিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, সেখানে মোট ২ হাজার ১৪৭ ভোটের মধ্যে ১ হাজার ১৫০ ভোট কাস্ট হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চকরিয়া উপজেলার ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের কোনো গোলযোগ হয়নি। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোর নজরদারিতে ছিলেন।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব জানান, পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪৭টি ভোটকেন্দ্রেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনা চলছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে কক্সবাজার-০১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখ (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী (হাতপাখা)।