
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ‘ভোট ব্যাংক’ বা শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই পরিচিতিকেও ছাপিয়ে গেলেন ধানের শীষের প্রার্থী এনামুল হক এনাম। আসনের ১১৩টি ভোটকেন্দ্রের সব কটিতেই সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে তিনি এক বিরল রেকর্ড গড়েছেন। সারা দেশে যে কয়জন প্রার্থী প্রতিটি কেন্দ্রে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন, তাঁদের অন্যতম এখন পটিয়ার এনাম।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১ লাখ ৫ হাজার ৩০৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়েছেন তিনি। ভোটের এই ব্যবধান এবং প্রতিটি কেন্দ্রে একচ্ছত্র আধিপত্য পটিয়ার রাজনীতিতে বিএনপির পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, পটিয়া আসনের মোট ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৫ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৩টি, যা মোট ভোটারের ৫৪.৭৭ শতাংশ।
বেসরকারি ফলাফলে এনামুল হক এনাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৭৭৭ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২০ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসলামী ফ্রন্ট ও জামায়াতের প্রার্থীরা তাঁদের নিজেদের ভোটকেন্দ্রেও জয়লাভ করতে পারেননি। সব কেন্দ্রেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী। প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এনামুল হক এনাম ৮টি কেন্দ্রে দুই হাজারের বেশি, ৬০টি কেন্দ্রে এক হাজারের বেশি এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইয়ে বিএনপি ছাড়া অন্য কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৮ প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী এনামুল হক এনাম এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু ছাড়া বাকি ৬ জনই তাঁদের জামানত হারিয়েছেন। জামানত হারানোদের এই তালিকায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও, যা দলটির স্থানীয় সাংগঠনিক দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে এলডিপির এম. ইয়াকুব আলী (ছাতা) ১০২ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) ৮৭৯ ভোট, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী (লাঙ্গল) ৭২৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন (ফুটবল) ২৩৫ ভোট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের আবুল তালেব হেলালী (আপেল) ৯২৩ ভোট পেয়েছেন।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, কোনো প্রকার সংঘাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে এনামুল হক এনাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল যুক্ত করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, এই ঐতিহাসিক জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এনামুল হক এনাম বলেন, “এ বিজয় পটিয়ার সকল মানুষের বিজয়। পটিয়ার মানুষ আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সবাইকে নিয়ে পটিয়ার উন্নয়ন এবং সকল সমস্যা সমাধানে আমি বদ্ধপরিকর।”
