চট্টগ্রামে এনসিপি প্রার্থীর ভরাডুবি, ২ হাজার ৯০৬ ভোট পেয়ে হারালেন জামানত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একমাত্র প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ চরম ভরাডুবির শিকার হয়ে জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনে তিনি সর্বসাকুল্যে মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটারের বিপরীতে মাত্র শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ।

চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং বোয়ালখালীর সহকারী রিটার্নিং অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি। বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই হিসেবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামানত রক্ষা করতে হলে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ তা পেতে ব্যর্থ হন। শুধু এনসিপি প্রার্থী নন, এই আসনে আরও দুই প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আলম, যিনি পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৮ ভোট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক, যিনি পেয়েছেন ৮৭০ ভোট।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বাকি দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।

বিএনপির বিজয়ী ১৪ জন প্রার্থী হলেন—চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মো. এনামুল হক, চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে জসিম উদ্দিন আহমেদ।

জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ী দুই প্রার্থী হলেন—চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জহিরুল ইসলাম।