পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে হারানো হয়েছে, প্রশাসন ছিল নীরব দর্শক: অলি আহমদ


চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে নিজের ছেলে ওমর ফারুকের পরাজয় মেনে নিতে পারেননি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়ে বিকেল চারটার পর ভোটকেন্দ্রে কারচুপি করে সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে হারানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব অভিযোগ করেন। অলি আহমদ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কখনো পরাজিত হয় না, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কখনো পরাজিত হয় না। পরাজিত হয়েছে টাকা এবং আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু লোক।’

বিকেল ৪টার পর ‘কারচুপির’ অভিযোগ

ভিডিও বার্তায় অলি আহমদ অভিযোগ করেন, ভোটের দিন বিকেল চারটার পর হাশিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাশিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান হাইস্কুলসহ তিনটি কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিকেল সাড়ে চারটার পর অপরিচিত কয়েক শ লোক কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারে। প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের সঙ্গে তাদের পূর্বপরিকল্পনা ছিল বলে মনে হয়েছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিকেল তিনটার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এলডিপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অলি আহমদ বলেন, ‘জসিম ৬-৭টি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে দিনভর মহড়া দিয়েছে। সন্ধ্যার পর প্রায় ৩০-৪০টি মাইক্রোবাস ও ট্রাক নিয়ে মিছিল করে উপজেলা হেডকোয়ার্টারে গিয়ে তছনছ করেছে। সেখানে পুলিশ, আর্মি ও প্রশাসন থাকলেও তাকে কেউ বারণ করেনি।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে টহল জোরদার করা, কিন্তু তারা একপেশে আচরণ করেছে।

সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিলের দাবি

এলডিপি প্রধান জানান, ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এজেন্টরা যখন চ্যালেঞ্জ করেছে, তখন কেন এই ভোটগুলো বাতিল করা হলো বা কীভাবে করা হলো, তা দেখানো হয়নি। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে পরাজিত করার জন্য করা হয়েছে।’

পরাজয় সত্ত্বেও জনগণের সেবায় আমৃত্যু পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করার প্রয়োজন নেই। উশৃঙ্খলতা পরিহার করুন। আমরা নির্বাচনে জিতলাম কি জিতলাম না, তাতে কিছু আসে যায় না। জনগণের সেবায় আমি ও আমার পরিবার সদা সর্বদা নিয়োজিত থাকব।’

ভিডিও বার্তার শেষে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ। ঘোষিত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দল সমর্থিত ও এলডিপি মনোনীত ছাতা প্রতীকের ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান রয়েছে ১ হাজার ২৬টি।