‘জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং’: জয়ের রহস্য জানালেন তারেক রহমান


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের দল ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “জনগণকে কনভিন্স করা এবং তাদের আস্থা অর্জন করাই ছিল আমাদের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা তাতে সফল হয়েছি।”

নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঠিকানার সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন নির্বাচনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, “যেকোনো ভালো কাজ বা লক্ষ্য অর্জন করতে গেলে কষ্ট হবেই। জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই ছিল কঠিন কাজ।”

সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই বিএনপি তাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবে। ভারতীয় সাংবাদিক অশোক রাজের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাজ্যের দ্য ইনডিপেনডেন্টের সাংবাদিক আলিশা রহমান সরকার ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য এবং শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে কেন্দ্র করে হবে না।”

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, “যা কিছু বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা সেদিকে যাব না। তবে এটি যদি দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক হয়, তখন সিদ্ধান্ত নেব।” তিনি চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

কাতারভিত্তিক আল-জাজিরার সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, নতুন সরকারের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিগত সরকারের আমলে রাজনীতিকরণ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা অন্যতম।

চ্যানেল ২৪-এর সাংবাদিক জহিরুল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত সরকার অলিগার্ক তৈরি করে অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। বিএনপি সরকার গণতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করবে, যেখানে বিশেষ কোনো মহল সুযোগ পাবে না বরং সবাই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রশ্নের জবাবে তিনি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান।

পাকিস্তানের জিও নিউজের সাংবাদিক এজাজ সাইদ সার্ক পুনর্গঠন ও শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, সার্ক গঠনের উদ্যোগ বাংলাদেশের ছিল এবং তার সরকার সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করতে চায়। শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।”

এছাড়া তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইশতেহারে তরুণদের পাশাপাশি নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে। তিনি আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে চলবে।