
সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘সম্পূর্ণ সাজানো’ বলে অভিহিত করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারকেও তাঁরা বৈধ বলে মনে করেন না।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “একটা নির্বাচন—যেখানে অর্ধেক দলকে বাদ দেওয়া হয় গায়ের জোরে, সেটা কীভাবে নির্বাচন হয়? যেই নতুন সরকার গঠন হবে সেটা তো কোনো বৈধ সরকার হবে না।”
নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে—নির্বাচন কমিশনের এমন দাবির প্রতিক্রিয়ায় জয় বলেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো নির্বাচন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগের রাত থেকেই কেন্দ্র দখল ও গোপন ভোট শুরু হয়। এছাড়া দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের ঘটনাও ঘটেছে।
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “সকালবেলা সামান্য একটু উপস্থিতি ছিল। ভোটকেন্দ্রে দেখা যায় মাঝে মধ্যে কিছু লোক আছে, তা ছাড়া লোকজন নাই। তারপর অনেকেই যারা ভোট দিতে যাচ্ছে, গিয়ে দেখছে যে তাদের ভোট অলরেডি দেওয়া হয়ে গেছে।”
আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল দলগুলোকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “বাস্তবে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ ভোট দেয়নি। এটা জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন হতে পারে না।”
দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ছেলে। জয় বলেন, “তিনি অনেক আগেই অবসর নিতে চেয়েছিলেন। এত বছর রাজনীতি করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। আমার মনে হয় তিনি হয়তো আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না।” তবে শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজে রাজনীতিতে আসবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমি কখনোই সরাসরি রাজনীতি করতে চাইনি। ব্যক্তিগতভাবে শান্ত জীবনেই আছি।”
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, দল ভাঙনের মুখে নেই বরং ঐক্যবদ্ধ এবং বর্তমানে নির্যাতনের শিকার। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহে ২০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং গত দেড় বছরে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।
ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, বিচার হলে সবার জন্য সমান বিচার হতে হবে। একদিকে হত্যাকাণ্ডের দায়মুক্তি দিয়ে ইনডেমনিটি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে শুধু আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে—একে তিনি ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগের গত ১৬-১৭ বছরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার রেকর্ড সহজে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
