মঙ্গলবার এমপি ও মন্ত্রিসভার শপথ, ভাঙছে বঙ্গভবনের রেওয়াজ


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায়। একই দিন বিকেলে বা সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। এর মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভাঙতে যাচ্ছে। এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন এবং মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ হবে। সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার রেওয়াজ থাকলেও এবার তা পরিবর্তন করে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকারের শপথ পড়ানোর কথা থাকলেও গণঅভ্যুত্থানের পর গত ২ সেপ্টেম্বর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। এছাড়া ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে আছেন।

সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তা পড়াবেন। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই মঙ্গলবার সিইসি নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন।

এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় আরও রয়েছে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, তুরস্ক ও ব্রুনেই।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি ও সরকারি বাসভবন প্রস্তুত রেখেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।