
আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ পেলেই কেবল ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেছেন, ১১ দলীয় জোট যেসব অভিযোগ এনেছে, তার বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ আইনে রয়েছে। সংক্ষুব্ধরা চাইলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল বর্জন ও পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এ প্রসঙ্গে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “জোটের পক্ষ থেকে যারা এসেছেন, তাদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। তারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। তাদের দাবিগুলোর বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।”
আইনি ব্যাখা দিয়ে তিনি বলেন, আইন তাদের সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তারা হাইকোর্টে যেতে পারেন। সেখান থেকে কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত এলে কমিশন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
ফলাফল প্রকাশে তড়িঘড়ি করার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। বরং কমিশন চেষ্টা করেছে আরও ‘স্মার্টলি’ কীভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফল উপস্থাপন করা যায়। মাঠপর্যায়ের নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফলাফল তৈরির কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন ইসি আনোয়ারুল। তিনি জানান, ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ না পড়ালে, চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন।
তবে শপথ কবে বা কখন হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসন থেকে আমাদের কাছে কোনো অফিশিয়াল চিঠিপত্র আসেনি। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”
নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, একজন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর বিশ্বাস ছিল একটি ভালো নির্বাচন হবে। আল্লাহ সরাসরি সহায়তা করায় তা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
