পিতৃত্বের স্বীকৃতি মেলেনি, ১ মাসের সন্তান রেখে গৃহকর্মী কিশোরীর আত্মহত্যা


চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পিতৃত্বের স্বীকৃতি না পাওয়ায় এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপে এক মাসের কন্যাসন্তান রেখে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার সকালে উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ওই কিশোরী স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নেজাম উদ্দিন ওরফে নেজাম মাঝি নামের এক ব্যক্তিকে একমাত্র আসামি করে বাঁশখালী থানায় মামলা করেছেন নিহত কিশোরীর বড় বোন। অভিযুক্ত নেজাম উদ্দিন ছনুয়া ইউনিয়নের চেমটখালী এলাকার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। নিহতের বোনের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত নেজাম উদ্দিনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নেজাম উদ্দিন শেখেরখীল ইউনিয়নের বাংলা খাল ব্রিজের কাছে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। তার ভবনে ভাড়া থাকতেন নিহত কিশোরীর বড় বোন ও দুলাভাই। সেই সুবাদে প্রায় দুই বছর আগে নেজামের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন ওই কিশোরী। অভিযোগ রয়েছে, বছরখানেক আগে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন নেজাম উদ্দিন। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং গত ২৭ জানুয়ারি একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করে জানায়, সন্তান জন্মের পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখেন। একইসঙ্গে মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সন্তানের পিতৃত্বের স্বীকৃতি না পাওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার মানসিক চাপ সইতে না পেরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

স্থানীয় সমাজপতি শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক করেছেন। কিন্তু অভিযুক্ত নেজাম উদ্দিন কিশোরীর গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করায় কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি। পরে মেয়েটি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিল। এক মাস বয়সী সন্তান রেখে মেয়েটির এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ওই কিশোরী বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছিলেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্তাধীন রয়েছে এবং সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।