
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তফসিল গোপন রেখে এবং অধিকাংশ সদস্যকে না জানিয়েই সভাপতিসহ আটজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববার সাধারণ সভায় এ নিয়ে হট্টগোলও হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধিত ৩৩টি সমিতির কয়েকজনকে জানিয়ে এবং বাকি সদস্যদের লিখিতভাবে অবহিত না করেই এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
রোববারের সাধারণ সভায় চৌধুরী মোহাম্মদ ছালেহকে সভাপতি এবং একজন সহ-সভাপতি ও ছয়জন সদস্যকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ সভায় সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয় এবং অনেকে সভা বর্জন করেন।
নিবন্ধিত একটি সমিতির সদস্য জাহেদুল ইসলাম নির্বাচন বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবিতে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “তফসিল যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং অধিকাংশ সমিতিকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।”
জানা গেছে, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গত ১৪ জানুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন তফসিল, মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে কোনো লিখিত চিঠি অধিকাংশ সমিতিকে দেওয়া হয়নি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল না করায় আটজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সাধারণ সভার মাধ্যমে বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ৩৩টি সমিতির প্রতিনিধিরা যদি যথাযথভাবে অবহিত না হন, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হওয়ার দায় কার—সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিআরডিবির সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর কেউ প্রার্থী না হলে আমাদের কিছুই করার নেই। কাগজে-কলমে আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সম্পন্ন করেছি।”
তফসিল গোপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে লোহাগাড়া পল্লী উন্নয়ন সমবায় কর্মকর্তা এনামুল করিম বলেন, “সব কিছু কাগজে-কলমে ঠিক আছে।” তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সমিতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
