
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে; এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। রোববার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারিঘোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সবকিছু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো— ওই এলাকার মনজুর আলম, বুলু আহমদ, নাছির উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, আলমগীর, জসিম উদ্দিন লালু, বয়োবৃদ্ধ নুরবানু, সাইফুল ইসলাম, আমির হোসেন ও নুরুল নাহারের পরিবার। আগুনের তীব্রতায় এর মধ্যে সাতটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং বাকি তিনটি পরিবারের বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভোররাতে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে তারা নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আগুন এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং চোখের সামনেই ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকল বাহিনীর তৎপরতায় ওই এলাকার আশপাশের অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি বসতঘর আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছে।
পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ শাফায়াত হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। সরকারিঘোনা এলাকার ওই ১০টি বসতঘর ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বরাতে স্থানীয় সাংবাদিক নাজিম উদ্দীন জানান, অগ্নিকাণ্ডে নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্রসহ সব পুড়ে গেছে। এতে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে পরিবারগুলো এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
