চট্টগ্রাম-১৫ আসনে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাজমুলের


চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা ‘দলীয় কর্মীর’ ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ওই আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। রোববার সন্ধ্যায় লোহাগাড়া সদরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে নীল নকশার নির্বাচনের পরিকল্পনা করে আসছিল, যা ভোটের দিন প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ভোটের দিন বেলা ১১টার পর কেন্দ্রে নারী ভোটার ছাড়া কোনো পুরুষ ভোটারকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ভোট গণনার সময় তাদের একজন এজেন্টের বিপরীতে প্রতিপক্ষের ২০ জন লোক উপস্থিত ছিলেন। জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য সারাদেশে ‘দুই কোটি বোরকা’ তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের কর্মী, সমর্থক ও নারীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। বিএনপি সব সময় শান্তি ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, কিন্তু প্রতিদিন এমন হামলা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ সময় তিনি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধেও পক্ষপাতের অভিযোগ এনে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করেছেন।

এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উদ্দেশে বলেন, তিনি চাইলে এলাকাকে অবৈধ অস্ত্রধারী ও বালু সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করতে পারেন। কিন্তু জামায়াত তাদের দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান এই প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, শেফায়েত উল্লাহ চক্ষু, ফৌজুল কবির ফজলু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল কবির, জসিম উদ্দিন আব্দুল্লাহ, আবু সেলিম চৌধুরী, এটি এম জাহেদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা দিদারুল হক চৌধুরী ও লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাব্বির আহমদ উপস্থিত ছিলেন।