হামলার মুখে হালদা নদীতে ঝাঁপ, তিন দিন পর মিলল লাশ


চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হালদা নদী পার হয়ে ওরস থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তের হামলার মুখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ তরুণ সাব্বিরের লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ছায়ার চর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করেন নৌ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা।

২১ বছর বয়সী সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম এলাকার মানাউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাব্বির ও তার ৮-১০ জন বন্ধু মাদার্শা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন হযরত আবদুল করিম শাহ (র.) প্রকাশ পোয়া ফকিরের বার্ষিক ওরস থেকে নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রামদাস মুন্সির হাট খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাদের নৌকা আটকে হামলা চালায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে সাব্বিরসহ কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাব্বির স্রোতের তোড়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার সময় সাব্বিরের সঙ্গে থাকা বন্ধু মারুফ জানান, হামলার সময় তিনিও নৌকা থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা সাঁতরে কূলে উঠতে পারলেও সাব্বির আর উঠতে পারেননি। স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ, রামদাশহাট নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিলেন। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা নদীতে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

রামদাস মুন্সির হাট নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই রমজান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ছায়ার চর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

নিহতের চাচাতো ভাই মো. টিপু বলেন, তারা এই ঘটনায় হত্যা মামলা করবেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার নাজমুল হাসান জানান, বিষয়টি মূলত নৌ পুলিশ দেখভাল করছে, তবে থানা পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা করা হয়নি।