প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান, মন্ত্রী হলেন যারা


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী সমন্বয়ে গঠিত ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভাও শপথ গ্রহণ করে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়েই সরকার গঠন করল বিএনপি।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে কয়েক ধাপে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা কেবল এমপি হিসেবে শপথ নেন এবং আইনি কাঠামোর অস্পষ্টতার কথা বলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত সদস্যরা উভয় শপথই গ্রহণ করেন।

শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলেও বিএনপি বিজয়ী দল হিসেবে ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। সরকার গঠনের পর থেকেই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি তরুণ ও টেকনোক্র্যাট সদস্যদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। নতুন সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৫ জন। তারা হলেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও জাকারিয়া তাহের। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ।

একই অনুষ্ঠানে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ নিয়েছেন। তারা হলেন— এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদুল ইসলাম, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ খৈয়াম। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আমিনুল হক।

সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন সম্পর্কে মামা ও ভাগ্নে দুই সংসদ সদস্য। মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার পর ববি হাজ্জাজ সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শপথের পরপরই সচিবালয় থেকে মন্ত্রীদের জন্য ৪৯টি গাড়ি জাতীয় সংসদের উদ্দেশে রওনা হয়।