২২ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা


প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো নতুন নির্বাচিত সরকারের। এর মধ্যে গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা। মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পরপরই অর্থনীতির এই বড় চ্যালেঞ্জটি সামনে এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) খসড়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকায়। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও কর্মচারীদের ফান্ড) থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৯ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশে পুঞ্জীভূত ঋণ ছিল ১৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। গত জানুয়ারি পর্যন্ত তা বেড়ে ২২ লাখ কোটিতে ঠেকেছে। অর্থাৎ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে গত দেড় বছরে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

ঋণের এই বিশাল অঙ্কের কারণে প্রতি বছর সুদ পরিশোধেই সরকারের ব্যয় হচ্ছে সোয়া লাখ কোটি টাকার বেশি, যা জিডিপির ২ শতাংশের ওপরে। সদ্য বিদায়ী অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ তার রেখে যাওয়া নোটে উল্লেখ করেছেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ পর্যাপ্ত না হওয়ায় বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করতে হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে উচ্চসুদে ও স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইআরডির তথ্যানুযায়ী, মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৫৩ শতাংশই মার্কিন ডলারে নেওয়া। ফলে ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকার অঙ্কে ঋণের পরিমাণও স্ফীত হচ্ছে।

সাবেক জ্যেষ্ঠ অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘জিডিপির অনুপাতে ঋণের হার এখনো অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে নতুন সরকারের জন্য আয় বাড়ানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে হবে।’’

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘নতুন সরকার ইশতেহার অনুযায়ী জনগণের মাঝে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এর ১০ শতাংশও যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে যায়, তবে ঋণনির্ভরতা আরও বাড়বে। তাই প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই বাজেট প্রণয়ন এবং জনগণকে বাস্তবতা বোঝানোই হবে সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা।’’

নতুন সরকার এখন প্রকৃত ঋণের হিসাব নিরূপণে কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে অর্থ বিভাগ।