
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা—এই তিন বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা বা সচিবদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি কর্মকর্তাদের স্পষ্ট বার্তা দেন যে, কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত সংশ্লিষ্টতা নয়, বরং মেধার ভিত্তিতেই তাদের মূল্যায়ন করা হবে।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রথম দিনের অফিস শেষে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রথা অনুযায়ী সরকারের প্রথম দিনে মন্ত্রিসভার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের কিছু বিশেষ অনুশাসন দিয়েছেন। সরকার আগামী ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে, যা শিগগিরই দেশবাসীকে জানানো হবে।
তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা ও পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে (গ্যাস-বিদ্যুৎ) যেন কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
আসন্ন রমজান মাসের প্রসঙ্গ টেনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বিশেষ করে তারাবি ও ইফতারের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে বলেছেন যে জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছে। তাই সংবিধান ও আইনবিধি মেনে সেই ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সচিবদের আন্তরিক হতে হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আমরা সবাইকে বলেছি, কার কী ‘অ্যাফিলিয়েশন’ বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে, সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।
এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জনগণ বিএনপির ইশতেহার দেখেই রায় দিয়েছে। সেই ইশতেহার যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পূরণ হয়, সেজন্য সব সচিবের মেধাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করা দেশের জন্য মঙ্গলের।
এর আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে বুধবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা সরাসরি সচিবালয়ে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।
