
পবিত্র মাহে রমজান শুরুর আগের দিনও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম অনেকটা স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু বুধবার সকালে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। একদিনের ব্যবধানে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ কাঁচা মরিচ, লেবু ও শসার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি মাছের বাজারেও আগুন। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে চকরিয়া উপজেলা সদরের সোসাইটি বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে দেখা যায়, সেহরি ও ইফতারের সওদা করতে ক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কাঁচামাল ও নিত্যপণ্য বিক্রিতে গলাকাটা বাণিজ্য শুরু করেছেন।
বুধবার সোসাইটি কাঁচা বাজারে একটি দেশীয় কাগজি লেবু ২০ টাকা এবং একজোড়া লেবু ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। শসার দামও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে; সাধারণ শসা কেজিপ্রতি ১২০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন ৬০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুদি দোকানে মানভেদে খেজুর ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা, ছোলা ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা, বেসন ৯৫ টাকা, মুড়ি ৭০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯৬ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সোসাইটি কাঁচা বাজারে ছোট সাইজের দেশীয় কোরাল ৮০০ টাকা এবং বড় সাইজের কোরাল ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় বাটা মাছ ৮০০ টাকা, দাতিনা মাছ ৭০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১১০০ টাকা এবং বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ ও রূপচাঁদা মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে চকরিয়া উপজেলা ভোক্তা অধিকার পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রমজান মাসে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সারা বছর বাজার স্থিতিশীল রাখতে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সোসাইটি কাঁচা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া জানান, পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে বেচাকেনাও কমে গেছে।
চকরিয়া কিচেন মার্কেটের পাইকারি আড়তদার ফরিদুল আলম সওদাগর বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে কাঁচা মরিচ, শসা, টমেটো ও লেবুর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় মোকামেই দাম বেশি।
তবে মুদি দোকানি ও চকরিয়া বিমানবন্দর রোড ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মোঃ নুরুল আবছার দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় এবার ছোলা ও চিনির মতো মুদি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে।
কাঁচামাল আড়ৎ সমিতির নেতা ও চকরিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এম নুরুস শফি জানান, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ সংকটের কারণেই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সার্বিক বিষয়ে চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার রুপায়ন দেব জানান, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাম স্থিতিশীল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরপরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হবে।
