
মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে বুশরা আনসারী রোজ নামের এক তরুণীকে তালাক দিয়েছেন তাঁর স্বামী মারিফুল হক শামীম। শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখা বুশরা আনসারী রোজের সাজানো সংসার নিছক একটি পরীক্ষার ফলাফলের কারণে ভেঙে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত বছরের ১১ নভেম্বর মহেশখালী পৌরসভার ঘোনা পাড়ার মৌলভী মোজাম্মেল হকের ছেলে মারিফুল হক শামীমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় বুশরা আনসারী রোজের। বিয়ের সময় দেনমোহর ধার্য করা হয়েছিল ছয় লাখ টাকা, যার মধ্যে কেবল এক লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। দাখিল ও আলিমে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী বুশরা আনসারী রোজকে বিয়ের পর থেকেই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রচণ্ড মানসিক চাপে রাখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাদের শর্ত ছিল, বুশরা আনসারী রোজকে ডাক্তার হতেই হবে। স্বামীর পরিবারের ইচ্ছায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিলেও গত ১২ ডিসেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে তিনি অকৃতকার্য হন।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই স্বামী মারিফুল হক শামীম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বুশরা আনসারী রোজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। গত ১৫ ডিসেম্বর স্বামী মারিফুল হক শামীম ফোনে সাফ জানিয়ে দেন, মেডিকেলে চান্স না পাওয়ায় তিনি আর সংসার করবেন না। এই অনড় সিদ্ধান্তের পর বড়মহেশখালী কাজী অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে সেখানেও বরপক্ষ বিচ্ছেদের দাবিতে অটল থাকে। কাজী নুরুল আবছার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বরপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে কনে মেডিকেলে উত্তীর্ণ হতে না পারায় তারা তাঁকে আর ঘরে তুলতে ইচ্ছুক নন।
বিচারের আশায় থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টো গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বুশরা আনসারী রোজের মা ফাতেমা বেগমের কাছে পাঠানো হয়েছে ডিভোর্স লেটার বা তালাকনামা। মা ফাতেমা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, এই চিঠি পাওয়ার পর থেকে তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি ডিভোর্স লেটার গ্রহণ করেননি এবং মেয়ের অধিকার আদায়ের জন্য আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত স্বামী মারিফুল হক শামীমের বাবা মৌলভী মোজাম্মেল হক বিচ্ছেদের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাঁরা বুশরা আনসারী রোজকে ডাক্তার বানানোর পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন, চট্টগ্রাম শহরে বাসা ভাড়া ও বিশেষ প্রশিক্ষণের খরচও দিয়েছেন। কিন্তু রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় এবং বেসরকারি মেডিকেলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় তাঁরা এই সম্পর্ক আর টিকিয়ে রাখতে চান না।
