
ক্রেতা সেজে বাজারে লেবু ও শসা কিনতে গিয়ে রোজার মাসে দ্বিগুণ দাম নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেব। অথচ রোজার এক দিন আগেও চকরিয়া উপজেলা সদরের সোসাইটি কাঁচাবাজারে লেবু, শসা ও কাঁচা মরিচের দাম স্থিতিশীল ছিল।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চকরিয়া উপজেলা সদরের সোসাইটি কাঁচাবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর দোকান পরিদর্শন করে বাজার মনিটরিং করেন। এ সময় দোকানে মূল্যতালিকা না থাকা, লেবু, শসা ও কাঁচা মরিচসহ নিত্যপণ্য বিক্রিতে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া এবং ওজনে কারচুপির অপরাধে তিন দোকানিকে মোট ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালতের সঙ্গে উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক ও চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেব জানান, রোজার শুরুতে সেহরি ও ইফতারির অন্যতম অনুষঙ্গ লেবু, শসা, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রিতে অতিরিক্ত দাম নেওয়াসহ নানা অনিয়ম-অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে সোসাইটি কাঁচাবাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি ও ওজনে কারচুপির বিষয়ে সত্যতা পাওয়ায় তিন দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির বাজারমূল্য তদারকি করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্য না নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
চকরিয়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপায়ন দেব আরও জানান, রোজার মাসে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গগত, রমজান মাসের শুরুতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হাটবাজারে হঠাৎ করে লেবু, শসা, কাঁচা মরিচসহ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। অভিযোগ ওঠে, কতিপয় ব্যবসায়ী চক্র মজুত মালামাল আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এসব নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেবের বক্তব্যসহ গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) একুশে পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই আলোকে শুক্রবার বিকেলে রমজানের নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং কার্যক্রমে নামে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন।
