চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ চিকিৎসকের যোগদান, সেবায় নতুন আশা


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিগত সরকার হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাব ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছিল। তবে নতুন ৮ জন বিসিএস চিকিৎসক এই হাসপাতালে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে চিকিৎসাসেবার দীর্ঘদিনের সেই সংকট অনেকটাই লাঘব হতে চলেছে।

জানা গেছে, ভৌগোলিক কারণে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পার্শ্ববর্তী মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা ও আলীকদম উপজেলার কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রতিদিন রোগীদের বাড়তি চাপ থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সদ্য ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) থেকে উত্তীর্ণ ৮ জন চিকিৎসক চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া একজন জুনিয়র কনসালটেন্টও বদলি হয়ে এখানে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ৮ জন চিকিৎসক যোগদান করেন। এ সময় তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলাম, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আমির হামজাসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন যোগদান করা ৮ জন চিকিৎসক হলেন ডা. মালিহা তাহসীন, ডা. আবদুল মোমেন, ডা. রাকিবুল ইসলাম, ডা. মিনহাজুল ইসলাম, ডা. সাগর দে, ডা. মিসকাত উদ্দিন আহমেদ মাহি, ডা. কাশেফ হোছাইন এবং ডা. সামিয়া আলম। যোগদানের পর নবাগত চিকিৎসকদের হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরিয়ে দেখান টিএইচও ডা. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

নবাগত চিকিৎসক ডা. মিসকাত উদ্দিন আহমেদ মাহি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, তিনি চকরিয়ার সন্তান এবং এখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা। নিজ এলাকায় যোগদান করতে পেরে তাঁর খুব ভালো লাগছে। মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন জানিয়ে তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও বর্তমানে এটি ৫০ শয্যার জনবল ও সরঞ্জাম দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে চিকিৎসকের চরম সংকট ছিল। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদুল হকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একসঙ্গে ৮ জন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। তিনি আশাবাদী, নতুন চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হাসপাতালে আগত রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।