৮ ঘণ্টার লড়াই শেষে হার মানল পটিয়ায় উদ্ধার নবজাতক


চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই পরিচয়হীন নবজাতকটি আট ঘণ্টার লড়াই শেষে মারা গেছে। রোববার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

রোববার বেলা পৌনে চারটার দিকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনা থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধারের পর শিশুটিকে বাঁচাতে চিকিৎসকেরা প্রাণপণ চেষ্টা চালান।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা রাব্বি জানান, দুই দিন বয়সী শিশুটিকে কারা ফেলে গেছে তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। তবে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল বলে ডা. সাবরিনা রাব্বি উল্লেখ করেন।

এর আগে, শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে হাসপাতালের স্টাফরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক যুবক ও এক যুবতী একটি প্যাকেটে করে নবজাতকটিকে হাসপাতালের পাশে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জয়নাব বিবি জানিয়েছিলেন, নবজাতকটির ওজন ছিল মাত্র ৯০০ গ্রাম। নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ায় শিশুটির নানা শারীরিক জটিলতা ছিল এবং তার নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন ছিল বলে নার্স জয়নাব বিবি জানান।

পরিচয়হীন এই নবজাতকের চিকিৎসায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হয়নি। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নবজাতককে উদ্ধারের পর হাসপাতালের একজন স্টাফের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ এক সহৃদয় ব্যক্তি বহন করেন।

ডা. আবু তৈয়ব আরও বলেন, শিশুটির ওজন খুব কম থাকায় জীবনের ঝুঁকি অনেক বেশি ছিল। চিকিৎসকদের শত চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং রোববার রাত ১২টার কিছু সময় পর এনআইসিইউতে শিশুটি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে।

কারা এই নবজাতককে নির্মমভাবে হাসপাতালে ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব জানিয়েছেন।