
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি বাসায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। শাখাওয়াত হোসেন নামের ওই মোটর পার্টস ব্যবসায়ী বুধবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান। এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
এর আগে গত সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ফ্ল্যাটে শাখাওয়াত হোসেন পরিবার নিয়ে থাকতেন। বিস্ফোরণে বাসায় থাকা ৯ জন দগ্ধ হন।
সোমবারই শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহানের মৃত্যু হয়। পরদিন মঙ্গলবার মারা যান তাঁদের ছেলে সাফায়াত, শাখাওয়াতের পর্তুগালপ্রবাসী ভাই সামির ও সামিরের স্ত্রী আয়েশা আকতার। বর্তমানে আরও চারজন বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, সকালে শাখাওয়াত হোসেন মারা গেছেন এবং দগ্ধ অন্য চারজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
নিহত শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী সকালে জানান, শাখাওয়াতের লাশ কুমিল্লায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।
বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, রান্নার চুলার গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
