
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রশাসনের অভিযানের পর, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে চেয়ারম্যানের দাবি, ইটভাটা উচ্ছেদের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফটিকছড়ির নাজিরহাট-কাজীরহাট সড়ক সংলগ্ন হারুয়ালছড়ি গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে ২০১৮ সালে একটি ইটভাটা স্থাপনের উদ্যোগ নেন কিছু ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের বাধার মুখে এবং পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলায় ওই সময় ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি ক্ষমতার পালাবদলের পর মামলাটি স্থগিত হয়েছে—এমন দাবি করে পুনরায় ভাটাটি চালুর চেষ্টা করেন মালিক মো. শফিউল আলম।
পুনরায় কাজ শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তা বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন ‘এন এস ব্রিকফিল্ড’-এর মালিক মো. শফিউল আলম। মামলায় আলাউদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আরজিতে মো. শফিউল আলম অভিযোগ করেন, গত ১১ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি আসামিরা তার ইটভাটায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ইটভাটার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সোলায়মান আকাশ জানান, পরিবেশ প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও ভাটা চালুর চেষ্টা আইনের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, পরিবেশবিরোধী প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরই চাঁদাবাজির অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের নেতৃত্বে প্রশাসন ও পুলিশ ওই ইটভাটায় অভিযান চালায় এবং সেখানে উপস্থিত থাকাই তার অপরাধ। তিনি আরও বলেন, জীবনের বিনিময়ে হলেও এলাকায় কোনো অন্যায় চলতে দেওয়া হবে না এবং স্থানীয় জনগণ এই মিথ্যা মামলা বিশ্বাস করে না।
