দালালের খপ্পরে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে চন্দনাইশের তরুণের মৃত্যু


দালালের খপ্পরে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়ে সীমান্তে মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার তরুণ মোহাম্মদ ফাহাদের (১৮)। শুক্রবার সকালে বিমানযোগে তার মরদেহ চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের মেসিনা সীমান্তে অনাহারে মোহাম্মদ ফাহাদের মৃত্যু হয় বলে তার পরিবার জানিয়েছে। নিহত ফাহাদ চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে।

ফাহাদের বাবা নূর মোহাম্মদ জানান, তার দুই শ্যালক দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে বসবাস করেন। তাদের মাধ্যমেই দালালদের সঙ্গে ১০ লাখ টাকা চুক্তিতে ছেলেকে সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দালালদের কথামতো রাজধানীর একটি এজেন্সির মাধ্যমে গত ২৮ জানুয়ারি বিমানযোগে মোহাম্মদ ফাহাদসহ ১৫ জন রওনা দেন। ৩০ জানুয়ারি ইথিওপিয়া হয়ে কঙ্গোয় পৌঁছান তারা। সেখান থেকে সড়কপথে নানা দুর্গম পথ পেরিয়ে জিম্বাবুয়ের মেসিনা এলাকায় পৌঁছানোর পর মোহাম্মদ ফাহাদ মারা যান।

নূর মোহাম্মদ আরও জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি আফ্রিকায় থাকা দুই শ্যালক ফোনে খবর নিয়ে জানান যে ছেলে ভালো আছে। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, মোহাম্মদ ফাহাদ আর বেঁচে নেই। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য আফগান নামের একজনের সহযোগিতায় তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ করে ১২ দিন পর শুক্রবার সকালে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।

ছেলের মৃত্যুর পর দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ দালালসহ প্রতারিত বাকি ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সর্বশেষ জানতে পেরেছেন বাবা নূর মোহাম্মদ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, দালালের মাধ্যমে আর কোনো বাবা-মা যেন তাদের সন্তানদের এভাবে বিদেশে না পাঠান।