- চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জের সুফল বাগান পরিদর্শন করছেন বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রাম বন সার্কেলকেন্দ্রিক দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের আমলে বদলি হওয়া ওই কর্মকর্তারা এখন রাজনৈতিক ডিগবাজি দিয়ে পুনরায় চট্টগ্রাম বন প্রশাসনে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই চক্রে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎকারী দুই বন কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে সরকারি বনাঞ্চলে টেকসই বনায়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সে সময় শুধু সুফল প্রকল্পের অর্থায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪৭ হাজার ৮০০ হেক্টর বনভূমিতে ১৩ কোটি ৮৫ হাজার গাছ রোপণের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ছিল ৬৬৪ কোটি টাকা। কিন্তু বন সংশ্লিষ্টদের দাবি, নজিরবিহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বর্তমানে এসব বনায়নে দুই কোটি পরিমাণ চারারও অস্তিত্ব নেই।
অভিযোগ রয়েছে, অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১০টি বন বিভাগে প্রায় ৮২ হাজার একর বনভূমি ইতোপূর্বে বেদখল হয়েছে। তৎকালীন এক মন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বনের জমি বিক্রি, সংরক্ষিত বনের অভ্যন্তরে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা ও কাঠ পাচারের মতো ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বন বিভাগে স্বচ্ছতা ফেরাতে ড. মোল্যা রেজাউল করিমকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক হিসেবে পদায়ন করে। তিনি যোগদানের পর বন বিভাগের স্থবিরতা নিরসন এবং সংঘবদ্ধ চক্রের লুটপাট বন্ধ করতে নিয়মিত বদলি ও পদায়ন শুরু করেন। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত টহল ও বনজ সম্পদ রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
এসব পদক্ষেপে ক্ষিপ্ত হয়ে বিগত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী অসাধু বন কর্মকর্তারা এখন ড. মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও ভুয়া ফেসবুক পেজে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক ডিগবাজি দিয়ে বদলি হওয়া ওই পুরোনো দুর্নীতিবাজরা হারানো আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সার্কেলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন না এবং নীতিমালার আলোকে সব কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, অধিনস্থ কেউ দুর্নীতি বা শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চাকরির শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছেন বলেও জানান তিনি।
ড. মোল্যা রেজাউল করিম আরও বলেন, বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোতে আবারও সোনালি সুদিন ফিরে আসুক। সবুজ বনায়ন সৃজনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যপূর্ণ একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

