পটিয়ার পাঞ্জাবি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যেও


মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরে নতুন কাপড় পরেন সবাই। তবে নতুন পাঞ্জাবি গায়ে না জড়ালে অনেকের যেন ঈদের আনন্দই অপূর্ণ থেকে যায়। এই উৎসব এলেই চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর সদরের আল-জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মার্কেটে পাঞ্জাবি সেলাইয়ের ধুম পড়ে যায়।

মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দর্জিপাড়া এখন পুরো একটি পাঞ্জাবি সেলাইয়ের মার্কেটে পরিণত হয়েছে। সারা বছর এখানে কারিগররা পাঞ্জাবি সেলাই করলেও ঈদ উৎসবে এর মাত্রা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায়। এখানকার পাঞ্জাবির খ্যাতি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে, যার কারণে দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পটিয়া পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কওমি মাদ্রাসা আল-জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই মাদ্রাসা মার্কেট।

এখানে ইসলামিয়া টেইলার্স, বিসমিল্লাহ টেইলার্স, নূরানী টেইলার্স, আল-জামিয়া টেইলার্স, আল-মদিনা টেইলার্স, আল-হাবিব স্টোর, আল-জামিয়া শপ, আহমদিয়া ক্লথ স্টোর, বিসমিল্লাহ ক্লথ স্টোর, জম জম টেইলার্স, সালাম ক্লথ স্টোর, রহমান ক্লথ স্টোর, আল হারমাইন ক্লথ স্টোর, আবাবিল, বারাকাহ ক্লথ স্টোর, আল এমারত টেইলার্স, আল-আমিন ক্লথ স্টোর এবং সাতকানিয়া ক্লথ স্টোরসহ অন্তত ৪০টির বেশি দর্জি ও কাপড়ের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে সব সময় ছোট-বড় নানা বয়সী ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে।

দোকানগুলোতে মূলত শুধু পাঞ্জাবি সেলাইয়ের কাজই চলে। পবিত্র রমজানের শুরু থেকেই এখানে পুরোদমে চলছে পাঞ্জাবি সেলাইয়ের প্রস্তুতি। আধুনিক সেলাই মেশিনের পাশাপাশি দক্ষ কারিগররা কাপড় দিয়ে পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, তুরস্কসহ আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডিজাইনে পাঞ্জাবি তৈরি করছেন।

আহমদিয়া টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জমির হোসেন জানান, মাদ্রাসা মার্কেটে তিনি ৩০ বছর ধরে পাঞ্জাবি সেলাইয়ের কাজ করছেন। তাঁর দোকানে আটজন কারিগর রয়েছেন। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত এখানে একটানা পাঞ্জাবি সেলাইয়ের কাজ চলে। সারা বছর একটি পাঞ্জাবি সেলাই করতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হলেও রমজান মাসে কাজের ধরন ও নকশা অনুযায়ী মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয় বলে জানান মোহাম্মদ জমির হোসেন।

আবদুল আজিজ নামের এক কারিগর জানান, তাঁরা প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০টি পাঞ্জাবি সেলাই করে থাকেন। পাঞ্জাবির কাজের মান অনুযায়ী মজুরি নির্ধারিত হয়। শুধু পাঞ্জাবি সেলাই করা নয়, এখানে আকর্ষণীয় এমব্রয়ডারিও করা হয়। পুরো রমজান মাসজুড়ে এই কাজ চলবে। আবদুল আজিজ আরও জানান, সারা বছরের তুলনায় ঈদের মৌসুমে কাজের চাপ অনেক বেশি থাকে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে পটিয়া মাদ্রাসা মার্কেটে পাঞ্জাবি সেলাই করতে আসা ক্রেতা আবু সুফিয়ান বলেন, পটিয়া মাদ্রাসা মার্কেটের কারিগরদের কাজ অত্যন্ত নিখুঁত এবং মান অনেক ভালো। তাঁরা প্রতিবছর এখানেই পাঞ্জাবি সেলাই করান। কাজের চমৎকার মান বিবেচনায় পারিশ্রমিক খুব বেশি নয় বলেও উল্লেখ করেন আবু সুফিয়ান।

বারাকাহ ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ফয়সাল জানান, পটিয়া আল-জামিয়া মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করেই মূলত এখানে পাঞ্জাবি সেলাইয়ের মার্কেট গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর ঈদ এলেই এখানে পাঞ্জাবি তৈরির ধুম পড়ে যায়। ক্রেতাদের চাপে কাপড় সরবরাহ করতে গিয়ে তাঁদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।

মো. ফয়সাল আরও জানান, শুধু পটিয়া নয়, বরং হাটহাজারী মাদ্রাসা, জিরি মাদ্রাসা, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর মাদ্রাসার ছাত্ররাও এখানে পাঞ্জাবি বানাতে আসেন। এমনকি দেশের বাইরের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এখান থেকে পাঞ্জাবি সেলাই করে বিদেশে নিয়ে যান।