চকরিয়ায় তামাকের বিকল্প স্ট্রবেরি, কৃষক কাইছারের বাজিমাত


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় তামাকের বদলে স্ট্রবেরি চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন কৃষক মোহাম্মদ কাইছার। মাতামুহুরী নদীর চরে তার এই সাফল্য স্থানীয় অন্য কৃষকদেরও নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে।

উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মিনিবাজার এলাকার বাসিন্দা কাইছারের খেতে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল ও হলুদ রঙের স্ট্রবেরি।

কৃষক মোহাম্মদ কাইছার জানান, ২০০৭ সালে প্রথম স্ট্রবেরি চাষের ধারণা পান তিনি। দুই বছর চাষ করার পর তা বন্ধ করে দেন, কারণ তখন স্থানীয়রা এই ফলটি সেভাবে চিনত না। এরপর ২০২২ সালে আবারও তিনি এই ফলের চাষ শুরু করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে রাজশাহীর একটি নার্সারি থেকে ‘ফেস্টিভ্যাল’ জাতের তিন হাজার চারা সংগ্রহ করে ২৫ শতক বর্গা জমিতে রোপণ করেন কাইছার। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে ফল তোলা শুরু হয়।

মালচিং পদ্ধতিতে এবং জালের ঘেরাটোপে এই চাষাবাদ করা হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা ‘আনন্দ’ ও ‘সীপ’ তাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।

খরচ ও লাভের বিষয়ে মোহাম্মদ কাইছার বলেন, জমি প্রস্তুত, চারা কেনা ও পরিচর্যা বাবদ তার প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে চার লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আরও অন্তত দুই লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন।

প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কেজি স্ট্রবেরি তুলছেন কাইছার ও তার শ্রমিকরা। এসব ফল চকরিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন সুপার শপ ও ফলের দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী জানান, উপজেলায় বেশ কয়েকটি এলাকায় স্ট্রবেরি চাষ হলেও কাইছারের খেতে সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে। আগেভাগে ফলন আসায় বাজারে দামও ভালো পাচ্ছেন তিনি।

কৃষক কাইছারের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য তামাক চাষিরাও স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও ক্ষতিকর তামাকের বিকল্প হিসেবে কৃষকদের এই ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলেও জানান শাহনাজ ফেরদৌসী।