
একুশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ দোয়া, ইফতার মাহফিল ও ‘ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট’ প্রকাশ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি মোড় সংলগ্ন কিচেন রেস্টুরেন্টে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে একুশে পত্রিকা।
নিজস্ব প্রতিবেদক আবছার রাফির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদারের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আদর্শকে স্মরণ করা হয়। বক্তারা তাঁর সাহসী ও আপসহীন সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রয়াত আজাদ তালুকদারের বড় ভাই শওকত হোসেন তালুকদার এবং তাঁর ছেলে ইসফার আজাদ অর্ঘ্য উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী আজাদ তালুকদারের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে একুশে পত্রিকাকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সম্পাদকের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান তিনি।
একাত্তর টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পী প্রয়াত আজাদ তালুকদারকে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে স্মৃতিচারণ করেন। নব্বইয়ের দশকে সাংবাদিকতা শুরুর সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, তখন আজাদ তালুকদার তাঁর কাছে একটি চিঠি নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই থেকে তাঁদের দীর্ঘ পথচলা শুরু হয়। মহসিন কাজী ও রিয়াজ হায়দারসহ একত্রে দীর্ঘদিন কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি একুশে পত্রিকার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল কবির দীপুর সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে একুশে পত্রিকার সুহৃদ টিপু সুলতান শিকদার ও জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া একুশে পত্রিকার সুহৃদ এইচএম জামাল উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজাদ তালুকদারের মতো সৎ ও সাহসী সাংবাদিক পুরো বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া বিরল। তিনি এমপি, মন্ত্রী কিংবা মেয়র কাউকেই অন্যায়ের ক্ষেত্রে ছাড় দেননি এবং সবসময় সত্যের পথে অবিচল ছিলেন।
আজাদ তালুকদারের ভাগনে তারেক সোহেল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, মামা হলেও তিনি তাঁকে বাবার মতো শ্রদ্ধা করতেন। আজাদ তালুকদারকে তিনি একজন আদর্শ সম্পাদক, সমাজকর্মী ও জনদরদী মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন।

ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট প্রকাশ ও সম্মাননা প্রদান
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বস্তুনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমূলক সাংবাদিকতাকে স্বীকৃতি দিতে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসের ‘ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট’ প্রকাশ করা হয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনয়ন, দুর্নীতি রোধ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংবাদকর্মীদের অবিস্মরণীয় অবদান এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।
ডিসেম্বর (২০২৫) মাসের সেরা ইমপ্যাক্ট জার্নালিস্ট নির্বাচিত হয়েছেন চকরিয়া প্রতিনিধি এম. জিয়াবুল হক। নদী দখলমুক্ত করা এবং সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি রোধে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ মাসে স্পেশাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ফটিকছড়ি প্রতিনিধি এস এম আক্কাছ, হাটহাজারী প্রতিনিধি মো. আলাউদ্দীন এবং বাঁশখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
জানুয়ারি মাসে সেরা ইমপ্যাক্ট জার্নালিস্ট হয়েছেন মহেশখালী প্রতিনিধি ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ। মাতারবাড়ী মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে সাহসী প্রতিবেদনের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। এ মাসে স্পেশাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক আবছার রাফি, আনোয়ারা-কর্ণফুলী প্রতিনিধি জিন্নাত আয়ুব, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি এস এম আক্কাছ এবং হাটহাজারী প্রতিনিধি মো. আলাউদ্দীন।
ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো সেরা ইমপ্যাক্ট জার্নালিস্ট নির্বাচিত হয়েছেন চকরিয়া প্রতিনিধি এম. জিয়াবুল হক। অবৈধ ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ ও বাজার কারসাজি রোধে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এ মাসে স্পেশাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন আনোয়ারা-কর্ণফুলী প্রতিনিধি জিন্নাত আয়ুব, রাউজান প্রতিনিধি আমির হামজা এবং বাঁশখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল কবির দীপু বিজয়ী সাংবাদিকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের বক্তব্য ও মোনাজাত
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল কবির দীপু তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রয়াত আজাদ তালুকদারের স্বপ্ন ছিল এমন এক সাংবাদিকতার যা সমাজের আনাচে-কানাচে বাস্তব পরিবর্তন আনবে। ইমপ্যাক্ট রিপোর্টের মাধ্যমে সাংবাদিকরা সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন। তিনি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং কলমের শক্তি দিয়ে চারপাশের অসঙ্গতিগুলো বদলে দেওয়ার এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মাওলানা শামছুল ইসলাম হাকেমীর পরিচালনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে আজাদ তালুকদারের আত্মার শান্তি ও জান্নাতুল ফেরদাউস কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে একুশে পত্রিকার সাংবাদিকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রতিবেদক শরীফুল রুকন, সহ সম্পাদক আব্দুল আলী, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার, সাতকানিয়া প্রতিনিধি নাজিম উদ্দিন, পটিয়া প্রতিনিধি রবিউল হোসেন, লোহাগাড়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও দীঘিনালা প্রতিনিধি জাকির হোসেন প্রমুখ।
