বাঁশখালীতে কবরস্থানে গৃহবধূর দাফনে বাধা, সমাজপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ


চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সামাজিক কবরস্থানে এক গৃহবধূর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সমাজপতির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই সমাজপতি গিয়াস উদ্দিন ওরফে গিয়াস মেম্বারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাঁশখালীর শেখেরখীল ইউনিয়নের আলী বলী পাড়ায় সর্বস্তরের মানুষ এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সপ্তাহে মারা যান আলী বলী পাড়ার বাসিন্দা খলিলুর রহমানের পুত্রবধূ ও আনিস আহমেদের স্ত্রী জান্নাত আরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকালে এক কন্যাসন্তানের জননী জান্নাত আরার দাফনকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জান্নাত আরার মৃত্যুর পর তাঁকে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু সমাজপতি গিয়াস উদ্দিনকে বিষয়টি জানালে তিনি ওই কবরস্থানে দাফনে আপত্তি জানান। তাঁর দাবি ছিল, জান্নাত আরার স্বামী আনিস আহমেদ দীর্ঘদিন শহরে বসবাস করেন এবং সমাজের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সুসম্পর্ক নেই, তাই সেখানে দাফনের অনুমতি দেওয়া যাবে না।

এ নিয়ে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা চললেও কোনো সমাধান আসেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুপুর ২টার দিকে জান্নাত আরার মরদেহ প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। দূরবর্তী ওই কবরস্থানে ধানক্ষেত মাড়িয়ে মরদেহ নিয়ে যেতে স্বজন ও এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশে এলাকাবাসী সাত দফা দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, শেখেরখীল আলী বলীপাড়া জামে মসজিদ, কবরস্থান ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি দীর্ঘদিন ধরে গিয়াস উদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মসজিদের নামে সাড়ে সাত কানি জমি থাকা সত্ত্বেও আয়ের হিসাব না দিয়ে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফ খোকন বলেন, মসজিদের চাঁদা আদায় থেকে শুরু করে সবকিছুতে সমান অংশগ্রহণ থাকলেও সমাজের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ মারা গেলে কবর দিতে বাধা দেন সমাজপতি গিয়াস উদ্দিন। অথচ উচ্চবিত্ত পরিবারের কেউ মারা গেলে তিনি বাধা দেন না।

সাইফ খোকন আরও বলেন, এই বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে চলে এলেও প্রভাবশালী হওয়ায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পান না। মসজিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ তিনি নিজের কব্জায় রেখে স্বার্থ হাসিল করছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজপতি গিয়াস উদ্দিন দাবি করেন, মারা যাওয়া নারী শহরে থাকতেন। তাই তিনি সামাজিক কবরস্থানে মাটি পাওয়ার অধিকার রাখেন না। ওই নারী সমাজের জন্য কোনো অবদান রাখেননি।

সমাজের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও দাফনে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন জানান, কবরস্থানে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তাঁকে সেখানে দাফন করা সম্ভব হয়নি।