দেশে ফেরা প্রবাসীদের ঘুরে দাঁড়াতে সবটুকু করবে সরকার: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী


প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাঠানো অর্থেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে এলেও তাঁদের ঘুরে দাঁড়াতে যা যা প্রয়োজন, তার সবটুকুই করবে সরকার।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় বিদেশফেরত ক্ষতিগ্রস্ত নারী কর্মী রুজিনা বেগমের হাতে পুনরেকত্রীকরণ সহায়তার চেক তুলে দেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাওয়া এই সহায়তায় রুজিনা বেগমকে মুদি ব্যবসার মালামাল ও ছাগল কেনার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। প্রতিকূলতা কাটিয়ে রুজিনা বেগমের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং তাঁদের কল্যাণে ব্র্যাকসহ সরকার কাজ করছে।

প্রবাসীদের ত্যাগ ও শ্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, প্রবাসীরা দেশে ফেরার পর তাঁদের পাশে থাকা রাষ্ট্রীয় কর্তব্য। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণের চাহিদা ও সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে সবার উচিত তাঁদের পাশে থাকা।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হন। তিনি সিলেটে ৪২৪ জন বিদেশফেরত কর্মী দেশে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য দাতা সংস্থার অর্থায়নে ব্র্যাকের মাধ্যমে সিলেটের মোট ৭২৬ জন বিদেশফেরত কর্মী এ পর্যন্ত আট কোটি সত্তর লাখ টাকার পুনরেকত্রীকরণ সহায়তা পেয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

ব্র্যাক ২০০৬ সাল থেকে অভিবাসনপ্রবণ জেলা সিলেটে মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদেশগামী নারী ও পুরুষের মাঝে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসিসহ নানাবিধ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এই কর্মসূচি। এ যাবত দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩৯ হাজার নারী ও পুরুষকে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০ হাজার বিদেশফেরত অভিবাসীকে অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণে দেওয়া হয়েছে ৮১ কোটি টাকার সহযোগিতা, যা তাঁদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করছে।

পাশাপাশি ২৬ হাজার ১৮৬ জন সম্ভাব্য ও বিদেশফেরত অভিবাসীকে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং ৫ হাজার ২৩৮ জনকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে। অস্বচ্ছল প্রবাসীদের তিন হাজারের অধিক সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্তিতে সহায়তা করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত নারী ও শিশু পাচার রোধেও কাজ করছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। কনসালটেশন, মিডিয়া ডায়ালগ ও সেমিনারের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ পর্যন্ত ২৪৮ জনকে বিদেশের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. আরিফ, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আঞ্চলিক এমআরএসসি সমন্বয়ক নূরুল ইসলাম, সিলেট এমআরএসসি সমন্বয়ক শুভাশীষ দেবনাথ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীবৃন্দ।