মাহফিলের নামে পটিয়ায় বাসে বাসে চাঁদাবাজি


চট্টগ্রামের পটিয়ায় আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ভাঙিয়ে মিলাদ মাহফিলের নামে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পটিয়া পৌরসদরের বাসস্টেশন এলাকায় প্রকাশ্যে টোকেন দিয়ে এই চাঁদাবাজি চললেও ভয়ে মুখ খুলছেন না চালক ও শ্রমিকরা।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মো. বখতিয়ারের নেতৃত্বে কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।

বাস মালিক ও শ্রমিকদের সূত্র থেকে জানা যায়, শ্রমিকদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা নেয়। সেই অর্থ তাদের তহবিলে জমা হয় এবং শ্রমিকদের চিকিৎসাসহ কল্যাণে ব্যয় হয়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এই সংগঠনের প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক রয়েছেন এবং পটিয়া রুটে রয়েছেন পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। এ ছাড়া পটিয়া রুটে শতাধিক ছোট-বড় বাস চলাচল করে, যেখান থেকে বাস মালিক সমিতিও আলাদা চাঁদা তুলে থাকে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, এসব নিয়মের বাইরে গিয়ে হঠাৎ করেই আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে চাঁদা নিচ্ছে মো. বখতিয়ারের নেতৃত্বাধীন চক্রটি। তারা পটিয়া পৌরসদরের বাসস্টেশন এলাকা থেকে প্রতিদিন শতাধিক গাড়ি থেকে ৩০ টাকা হারে চাঁদা তুলছে। শ্রমিকদের দাবি, একটি বড় সিন্ডিকেটের অদৃশ্য ইশারায় এই টাকা তোলা হচ্ছে।

শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, পটিয়া বাসস্টেশন থেকে পার্কিং এবং শ্রমিক সংগঠনের জন্য চাঁদা নেওয়া হয়। অন্যদিকে বাস মালিক সংগঠন নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে চাঁদা নেয়, যার সরকারি অনুমোদন রয়েছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে যারা চাঁদা তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।

এদিকে সরেজমিনে পটিয়া বাসস্টেশন এলাকায় গিয়ে মাহফিলের নামে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। একুশে পত্রিকার হাতে আসা কয়েকটি টোকেনে গাড়ির নম্বর উল্লেখ করে ‘পটিয়া টু নতুন ব্রিজ’ লিখে মাহফিলের নামে ৩০ টাকা করে নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, মো. বখতিয়ারের নেতৃত্বে কয়েকজন এই চাঁদা নিলেও তারা কেউই শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য নয়।

চাঁদাবাজির বিষয়ে অভিযুক্ত মো. বখতিয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাড়ি চালাচ্ছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা জানান, তাঁদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করে মিলাদ মাহফিলের জন্য চাঁদা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মো. মুছা আরও স্পষ্ট করে জানান, তাঁদের সংগঠনে ধর্মীয় কোনো চাঁদা নেওয়া হয় না এবং যারা এই টাকা নিচ্ছে, তা সম্পূর্ণ চাঁদাবাজি।

তিনি এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।