পেকুয়া থানায় সাজাপ্রাপ্ত সেই মা ও মেয়ে বেকসুর খালাস


কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় বিচারপ্রার্থী মা ও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন এবং এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় দেওয়া সাজা বাতিল করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ আদালত পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলমের দেওয়া এক মাসের সাজা বাতিল করে তাঁদের বেকসুর খালাস দেন।

গত বুধবার পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানুকে (৪৮) থানায় বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে। ওই দিন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম থানায় উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাঁদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত মামলার তদন্তভার চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক পল্লব কুমার ঘোষকে দিয়েছিলেন। মামলার প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে দেওয়ার নাম করে উপপরিদর্শক পল্লব কুমার ঘোষ জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানুর কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা ঘুষ নেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ নেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে বেশি টাকা পেয়ে তাঁদের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন উপপরিদর্শক পল্লব কুমার ঘোষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার মা ও মেয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গেলে হট্টগোল বাধে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁদের বেধড়ক পেটানো হয় এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে খবর দিয়ে থানায় আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়া হয়।

এই ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেয়।

আদালত থেকে খালাস পেয়ে শনিবার বিকেলে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে বের হন জুবাইদা জন্নাত ও রেহেনা মোস্তফা রানু। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাঁদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করেন।