
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে হাইকোর্টের আদেশে পদ ফিরে পাওয়া এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একাংশ এবং সম্মিলিত এলাকাবাসী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহারছড়ার মোশাররফ আলী মিয়ার বাজারে শনিবার রাতভর দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।
অভিযোগ উঠেছে, দেলোয়ার আজিম নামের ওই বিএনপি নেতার নেতৃত্বে মব করে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সিকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়।
শনিবার বিকেলে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বিএনপির সাবেক সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জালাল উদ্দীন চৌধুরীর সঞ্চালনায় একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শওকত, সাবেক ইউপি সদস্য মমতাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট কাজী মুফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, জামায়াত নেতা ডা. হারেজ উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হামিদ বাহার চৌধুরী, মেম্বার এবাদুল হক, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, নাছির উদ্দিন ও সাইফুল হক।
সমাবেশে বক্তারা জানান, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টের আদেশে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সি। নিয়মানুযায়ী পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা ও নাগরিক সেবা দিতে বাহারছড়া ইউপি কার্যালয়ে গেলে বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিমের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁকে বাধা দেয়। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করা হয়। আগামীতে তাঁকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হলে তা কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সি দলবল নিয়ে পরিষদ দখল করতে এলে স্থানীয় জনগণ তাঁকে ধাওয়া করে। এতে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম শহরে ছিলেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সি মাত্র ৭৭ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী দেলোয়ার আজিমকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত ৫ আগস্টের পরও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি দায়িত্ব ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। দীর্ঘ দিনেও সিদ্ধান্ত না আসায় তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সির আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই আদেশ কার্যকর না করে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরাজিত প্রার্থী দেলোয়ার আজিম প্রভাব বিস্তার করে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছেন।
রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজু জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আবেদন নিষ্পত্তি না করা এবং ভিন্ন ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।
চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সি জানান, হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দায়িত্বে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না, যা অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য।
এ ঘটনাকে ঘিরে বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
