
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্বস্তির খবর নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী আটটি জাহাজ। রোববার (৮ মার্চ) সকালে জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। জাহাজগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জাহাজ পৌঁছানোর এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগে পারস্য উপসাগরের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট দশটি জাহাজ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো এবং পথে থাকা এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে। এ ছাড়া ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য নিয়ে পৌঁছেছে আরও চারটি জাহাজ। সব মিলিয়ে এই দশটি জাহাজে পৌনে চার লাখ টন তেল ও গ্যাস রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং তেহরানের পালটা প্রতিক্রিয়ার কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাণিজ্যিক তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব—এই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আনা-নেওয়া হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রণালির পাশের দেশ ওমান থেকেও ওমান উপসাগরীয় পথে পণ্য পরিবহণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সাধারণত পারস্য উপসাগর থেকে এই প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে জাহাজ পৌঁছায়।
এমন এক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে কতগুলো জ্বালানিবাহী জাহাজ আসছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গত শুক্রবার জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা বা রেশনিং নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
