জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযান শুরু


পাহাড়ের গহিন অরণ্যে ঘেরা দুর্গম এলাকা জঙ্গল সলিমপুর যেন দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের এক অভেদ্য দুর্গ। তবে সেই দুর্গ গুঁড়িয়ে দিতে এবং অবৈধ অস্ত্রের মজুত ধ্বংস করতে সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকেই চট্টগ্রামে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে যৌথ বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া নির্দেশনায় ভোর পাঁচটা থেকে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর প্রায় হাজারো সদস্যের এক বিশাল বহর পুরো জেলা, বিশেষ করে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে এই শ্বাসরুদ্ধকর বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে এই জঙ্গল সলিমপুরেই সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় প্রাণ হারান র‍্যাব-৭-এর কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব। র‍্যাবের চার সদস্যকে বেধড়ক মারধরের সেই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এই দুর্গম পাহাড়েই আত্মগোপন করে আছে। আর সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আজকের এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় এখানে অভিযান চালানো সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পাহাড়ের ভেতরে অসংখ্য সরু পথ, গহিন ঝোপঝাড় ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বসতি থাকায় অপরাধীরা সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে যেতে পারে। তাই নিখুঁতভাবে অভিযান পরিচালনার জন্য যৌথ বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে, আর আরেকটি দল দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে ওপরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পালাতে না পারে, সে জন্য সম্ভাব্য সব কটি পথে আগেই তল্লাশিচৌকি বা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানায়, পাহাড়ের ভেতরে থাকা একাধিক পাহাড়ি ছড়া ও পরিত্যক্ত ঘরগুলোকে অপরাধীরা তাদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে। কোথাও কোথাও পাহাড়ি পথ এতটাই সরু যে একসঙ্গে কয়েকজনের বেশি হাঁটা সম্ভব হয় না। এসব কারণে সদস্যরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সোমবার ভোর হওয়ার আগেই পাহাড়ের আশপাশে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এসে অবস্থান নেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁরা পাহাড়ের ভেতরের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের প্রতিটি আনাচকানাচে এই তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) মো. রাসেল জানান, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরো জেলায় যৌথ বাহিনীর এই জোরালো অভিযান চলছে। বিশেষ করে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।