চাকরি ছেড়ে যাওয়া কর্মকর্তাকেই সাময়িক বরখাস্ত করল নির্বাচন কমিশন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিনি পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের মাঠ কর্মকর্তা এবং রাইমংছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, বরখাস্তের এই আদেশ আসার আগেই অন্য চাকরি পাওয়ায় তিনি আগের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে গেছেন। ফলে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কে বা কীভাবে কার্যকর করবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা একটি চিঠি থেকে এই সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটির ২৯৯ আসনের বিলাইছড়ি উপজেলার রাইমংছড়া কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পান আবদুল্লাহ আল মামুন। কিন্তু তিনি কর্তৃপক্ষকে কোনো কিছু না জানিয়েই নির্বাচনের দিন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকেন। নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত)-এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী এটি একটি গুরুতর অসদাচরণ। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাকে দুই মাসের জন্য চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে আইন অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।

পুরো ঘটনাটির বিষয়ে বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান জানান, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে আবদুল্লাহ আল মামুন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও তিনি ঠিক কী কারণে মূল দায়িত্ব পালন করেননি, সে ব্যাপারে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেননি। তার চাকরি ছাড়ার প্রসঙ্গে ইউএনও হাসনাত জাহান খান আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেহেতু এখন আর আগের পদে কর্মরত নেই, তাই সাময়িক বরখাস্তের এই নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এরপরও নির্বাচন কমিশনের আইনে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী করণীয় বলা আছে, তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল হক অভিযুক্তের চাকরি ছাড়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবদুল্লাহ আল মামুন তাদের প্রতিষ্ঠানে মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন ঠিকই, তবে অন্যত্র নতুন চাকরি হওয়ায় তিনি আগেই এখান থেকে নিয়ম মেনে অব্যাহতি নিয়েছেন।

এদিকে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফাতেমা আহমেদ পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই কর্মীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশের বিষয়ে তিনি এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানেন না।