জঙ্গল সলিমপুর এখন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, জানালেন ডিআইজি


দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে চলে আসা অবৈধ দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এখন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।

সোমবার দুপুর দুইটার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে যাওয়ার পথে ছিন্নমূল এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি যৌথবাহিনীর এই সফল অভিযানের কথা জানান। এই অভিযানে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, অভিযানের পর সেখানে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ পুলিশ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) দুটি আলাদা ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে এই এলাকায় কেউ আর কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ না পায়।

আটকের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটকের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অভিযানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিট এখনো তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের চূড়ান্ত সংখ্যাটি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

জঙ্গল সলিমপুরের অতীতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, প্রায় ২০০০ সাল থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি যাবতীয় নিয়মকানুন সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আসছিল। তারা ওই এলাকায় অবৈধভাবে জমির ভুয়া কাগজ তৈরি, জমি দখল এবং হস্তান্তরের মতো বেআইনি কার্যক্রম অবাধে চালিয়ে আসছিল। সেখানকার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সাধারণ মানুষের কথা তো দূরে থাক, স্বয়ং পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পেতেন বলে উল্লেখ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এর আগে চারবার এই দুর্গম ও সন্ত্রাসী অধ্যুষিত এলাকায় অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। তবে এবার পঞ্চমবারের মতো সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনী এই সাফল্য অর্জন করেছে।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ আরও জানান, এই বিশাল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা একযোগে অংশ নেন। সবার সম্মিলিত ও সাহসী এই অভিযানের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে এলাকাটিতে রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।