
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন কিশোরসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফেলাগাজী দীঘি এলাকায় ঘটা মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত ১৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল গ্রামের যোগেজ উড়াংয়ের ছেলে উত্তম উড়াং (১৭), রাম উড়াংয়ের ছেলে নয়ন উড়াং (১৭) এবং তপন উড়াংয়ের ছেলে তপু উড়াং (১৭)। নিহত অপর একজনের পরিচয় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত উত্তম উড়াংয়ের বাবা যোগেজ উড়াং হতবিহ্বল কণ্ঠে জানান, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় লেখাপড়ার পাশাপাশি তারা রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করত। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই দুর্ঘটনায় তারা লাশ হয়ে ফিরেছে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীগামী একটি দূরপাল্লার বাস বেপরোয়া গতিতে ওই এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে বাসের ভেতরে থাকা অন্তত ১৬ জন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
আহতদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে আসা দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত ১৬ জনের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
