হাটহাজারীতে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান, ৫ জনের কারাদণ্ড


চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভা এলাকায় দিনব্যাপী এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে পাঁচজন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে মো. মাসুদ, মো. মামুন, রবিউল হোসেন বাপ্পী, মো. জিসান এবং মো. মেহদি নামের ওই পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তাহরিমা হাসপাতালের পেছনে একটি ঝুপড়ি ঘরে হানা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখান থেকে ইয়াবা ও গাঁজা সেবনরত অবস্থায় মো. মাসুদ এবং মো. মামুনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অবৈধভাবে মাদক রাখা ও সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে মোট দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন পৌরসভার আব্বাসিয়ার পুল এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের অপরাধে রবিউল হোসেন বাপ্পী, মো. জিসান এবং মো. মেহদি নামের আরও তিন মাদকাসক্তকে আটক করা হয়। দোষ স্বীকার করায় আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দিনব্যাপী পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মাদকের মূল ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আটকদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওইসব মূল মাদক কারবারির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং হাটহাজারী মডেল থানাকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন।

পুরো অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে এর নেতৃত্বদানকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় হাটহাজারীতে উপজেলা প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।