
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে চোরাবালিতে আটকে মাইমুনা আক্তার ও ইশপা মুনি নামের দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতে সৃষ্ট গভীর গর্ত ও চোরাবালিতে পড়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার বেলা ৩টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভিরচর এলাকার মাতামুহুরী পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ১৪ বছর বয়সী মাইমুনা আক্তার চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীরচর এলাকার জামাল উদ্দিনের মেয়ে। অন্যদিকে ১১ বছর বয়সী ইশপা মুনি একই এলাকার আব্দুর রহিমের মেয়ে। তারা দুজনেই স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে মৌলভীরচর এলাকায় ৪ থেকে ৫ জন বান্ধবী মিলে একসঙ্গে নদীর ঘাটে গোসল করতে নামে। পানিতে নামার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই মাইমুনা আক্তার ও ইশপা মুনি গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে।
এ সময় অন্য বান্ধবীরা তাদের উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে নদী থেকে ওই দুই কিশোরীকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, মুমূর্ষু অবস্থায় মাইমুনা ও ইশপাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় নিহতদের সঙ্গে থাকা আরও দুই কিশোরী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে একটি বালুদস্যু চক্র শ্যালো মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
এর ফলে নদীজুড়ে মরণফাঁদ ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ গর্তের চোরাবালিতে আটকেই এমন অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাদের। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (সেকেন্ড অফিসার) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন জানান, নদীতে ডুবে মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত মাইমুনা ও ইশপার লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
