
সঠিক নেতৃত্ব ও প্রবল সদিচ্ছা থাকলে এক মাসের মতো স্বল্প সময়ের মধ্যেও যে বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেটি সরকার প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যে হতদরিদ্রদের জন্য এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে শুরু করাকে তিনি বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
একটি রাষ্ট্রের সুফল শুধু সমাজের ওপরের স্তরের কিছু মানুষ ভোগ করবে আর বাকি বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বঞ্চিত থাকবে, এমন অর্থনীতি বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে আমাদের অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হবেন পিছিয়ে পড়া সাধারণ মানুষ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের চিন্তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে উল্লেখ করেন তিনি। আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়তে চাই, যেখানে প্রান্তিক মানুষের কল্যাণই হবে প্রধান লক্ষ্য বলে জানান সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরিধি সম্পর্কে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আপাতত এই সুবিধা একেবারে হতদরিদ্রদের দিয়ে শুরু করা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং পরবর্তীতে মধ্যবিত্তদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। সাধারণত বাংলাদেশে কোনো প্রকল্প বছরের পর বছরেও বাস্তবায়ন করা যায় না। কিন্তু নেতৃত্ব সঠিক হলে এবং সদিচ্ছা থাকলে এক মাসের মধ্যেও যে তা সম্ভব, সরকার সেটিই করে দেখিয়েছে।
এত অল্প সময়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিক ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি। অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করেন না বলে যে অভিযোগ ওঠে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে চাইলে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তারাও দারুণ কাজ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সমাজকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করলে অল্প সময়েই এর সুফল পাওয়া যায় এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবারের এই অনুষ্ঠানে মোট ৫ হাজার ৭৭৫টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো দলীয়করণের সুযোগ ছিল না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুরো কাজটি সরকারি কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করেছেন। ফলে দল-মত বা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রকৃত অধিকারীদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যেসব সেবা ভবিষ্যতে চালু করা হবে, সেগুলোও একইভাবে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, যাতে তাদের আর সরকারি দপ্তর বা রাজনীতিবিদদের পেছনে ঘুরতে না হয়।
শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় বিনামূল্যে চিকিৎসা, কৃষকদের স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং খাল খননের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কৃষকদের সহায়তার প্রসঙ্গ টেনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দরিদ্র কৃষকদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ ইতোমধ্যে মওকুফ করা হয়েছে। এর ফলে তারা নতুনভাবে কৃষিকাজ শুরু করার সুযোগ পাবেন, যা আখেরে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিপুলভাবে সহায়তা করবে।
এছাড়া নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। নারীপ্রধান পরিবারগুলোর হাতে অর্থনৈতিক শক্তি তুলে দিতেই সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সেই অর্থ ব্যয় করতে পারেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
