পটিয়ায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলার প্রতিবাদ, বাস থেকে নামিয়ে দুই যাত্রীকে মারধর


চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর প্রতিবাদ করায় দুই যাত্রীকে নামিয়ে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার ভেল্লাপাড়া এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম-পটিয়া রুটে পরিবহন শ্রমিকদের এমন বেপরোয়া আচরণ প্রতিনিয়ত ঘটলেও প্রশাসনিক কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় চট্টগ্রাম শহরের শাহ আমানত সেতু বা কর্ণফুলী সেতু গোলচত্বর এলাকায়। সেখানে পটিয়াগামী গাউছিয়া মঈনীয়া পরিবহনের (চট্ট-মেট্রো-জ ১১-০২০৩) একটি বাস যাত্রী ওঠানোর জন্য অপেক্ষা করছিল। বাসটিতে পর্যাপ্ত যাত্রী ওঠার পর সেটি পটিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

কিন্তু বাসটি কর্ণফুলী সেতুর গোলচত্বর অতিক্রম করার সময় দুজন যুবক জোরপূর্বক গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় বাসে থাকা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে ওই দুই যুবকের তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। বাসের চালক আবদুর রহিম জানান, বাসে ওঠার চেষ্টাকারী ওই দুই যুবক মূলত পটিয়া রুটেরই বাস শ্রমিক।

কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই দুই যুবক বাস থেকে নেমে গেলে সেটি পুনরায় পটিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু বাসটি পটিয়ার ভেল্লাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক বাসটির গতিরোধ করে।

তারা বাসে উঠে প্রতিবাদকারী ওই দুই যাত্রীকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাসের অন্যান্য যাত্রী, হেলপার এবং চালক আবদুর রহিম এগিয়ে গিয়ে আহত অবস্থায় ওই দুই যাত্রীকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাসের এক যাত্রী মোহাম্মদ শেখ জানান, শাহ আমানত সেতু এলাকায় পটিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ওই বাসে দুই যুবককে অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে তুলতে গেলে ভেতরের যাত্রীরা এর প্রতিবাদ করেন। এরই জেরে ওই দুই যুবকের সঙ্গে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

মোহাম্মদ শেখ আরও জানান, সেই ঘটনার জের ধরেই পটিয়ার ভেল্লাপাড়া এলাকায় বাসটি থামিয়ে বহিরাগত কিছু যুবক বাসে উঠে প্রতিবাদ করা দুই যাত্রীকে বেধড়ক পেটাতে থাকে, যার ফলে তারা শারীরিকভাবে বেশ আঘাতপ্রাপ্ত হন।

মারধরের এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন গাউছিয়া মঈনীয়া পরিবহনের ওই বাসচালক আবদুর রহিম।

তিনি জানান, অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের পেটানোর যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার সঙ্গে মূলত বহিরাগত কিছু যুবক জড়িত। শাহ আমানত সেতু এলাকায় যাদের সঙ্গে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি হয়েছিল, তারাই মূলত এই বহিরাগতদের ডেকে এনে হামলা চালিয়েছে।

তবে চালক আবদুর রহিম দাবি করেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে যাত্রীদেরও কিছুটা দোষ ছিল।

পুরো ঘটনার বিষয়ে পটিয়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মারধরের এই ঘটনার বিষয়ে থানায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।

তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি হারুনুর রশিদ আশ্বাস দিয়েছেন।