জঙ্গল সলিমপুরে বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২২, উদ্ধার ১১১৩ রাউন্ড গুলি


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর এক সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী চক্রের ২২ সদস্যকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আহসান হাবীব পলাশ জানান, এই অভিযানে পাহাড়ের গভীরে সন্ত্রাসীদের একটি গোপন আস্তানা এবং একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই কারখানা ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা নিজেদের অস্ত্র তৈরি করত এবং পাহাড়জুড়ে সিসিটিভি নেটওয়ার্ক স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করত। অভিযানে তাদের সেই নজরদারি ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ডিআইজি আরও জানান, অভিযানে উল্লেখযোগ্য কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করা না গেলেও পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। আগে অপরাধীরা ওই এলাকায় নির্বিঘ্নে লুকিয়ে থাকার সুযোগ পেত, তবে এখন আর সেই পরিস্থিতি থাকবে না বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান এবং ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ৬১টি কার্তুজ, ৩০টি ম্যাগাজিন এবং ১১টি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে অস্ত্র তৈরির একটি লেদ মেশিন, নজরদারিতে ব্যবহৃত ১৯টি সিসি ক্যামেরা, কয়েকটি ডিভিআর এবং দুটি বাইনোকুলারও রয়েছে।

বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় এই বিশাল অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাব, বিজিবি, এপিবিএন ও আরআরএফের মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য একযোগে অংশ নেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১২টি ড্রোন, ১৫টি এপিসি এবং তিনটি ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হয়।

এই অভিযানের সার্বিক নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। এ সময় মাঠে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।

অভিযানের সময় এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে গড়ে তোলা সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও নজরদারি টাওয়ার বা ওয়াচ টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বড় ধরনের এই অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে আরআরএফ, এপিবিএন ও র‍্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আহসান হাবীব পলাশ আরও বলেন, এলাকার কিছু ভূমিদস্যু দীর্ঘদিন ধরে এসব সন্ত্রাসীদের সহায়তা করছিল এবং প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। অতীতে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে র‍্যাবের এক সদস্যের নিহত হওয়ার ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।