
চট্টগ্রামের পটিয়ায় লবণ মিল শ্রমিকদের জমানো টাকা নিয়ে এক ক্যাশিয়ার লাপাত্তা হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার ইন্দ্রপুল লবণ শিল্প এলাকার প্রায় ৪০টি কারখানার হাজারের বেশি শ্রমিক বুধবার সকাল থেকে কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে পটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে মালিক, শ্রমিক ও পুলিশ যৌথভাবে সমস্যা সমাধানের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটিয়ার ইন্দ্রপুল লবণ শিল্প এলাকায় সচল থাকা প্রায় ৪০টি কারখানায় কাঁচা লবণ প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা হয়। এসব কারখানায় কর্মরত হাজারো শ্রমিকের কল্যাণে একটি নিজস্ব সমিতি রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, এই সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে একটি ব্যাংকে জমা রাখা হতো। কথা ছিল, সংগৃহীত সেই টাকা প্রতি বছরের ২০ রমজান সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হবে। কিন্তু মঙ্গলবার শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য টাকা না পাওয়ায় এই কর্মবিরতির ডাক দেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক রাসেল অভিযোগ করে জানান, সমিতির ক্যাশিয়ার মো. শামীম প্রতিদিন শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন এবং বর্তমানে তিনি শ্রমিকদের প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।
রাসেল আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক সমিতি ও মিল মালিক সমিতির নেতারা আগামী বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।
এদিকে, কয়েকজন ক্ষুব্ধ শ্রমিক অভিযোগ করেছেন যে শ্রমিক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দীনের চরম গাফিলতির কারণেই ক্যাশিয়ার মো. শামীম এত বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে পালানোর সুযোগ পেয়েছেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রমিক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. ফরিদ জানান, শ্রমিকদের নিয়ে গড়া সমিতির টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার উধাও হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি, যার কারণে সকাল থেকে কারখানাগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
মো. ফরিদ আরও জানান, তারা বর্তমানে উধাও হয়ে যাওয়া ক্যাশিয়ারের সন্ধানে কাজ করছেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানে মালিক, শ্রমিক ও পুলিশের সঙ্গে জরুরি বৈঠক চলছে।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক জানান, শ্রমিকদের জমানো টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার উধাও হওয়ার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।
তবে বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের এই ঘটনায় থানায় এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
