
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। সকাল থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত বিপণিবিতানগুলোতে চলছে উৎসবমুখর বেচাকেনা।
বিশেষ করে ইফতারের পর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে সরগরম থাকে পুরো এলাকা। পোশাক, জুতা, ব্যাগ ও কসমেটিকসের দোকানে চলছে জমজমাট কেনাবেচা আর দরকষাকষি।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা ধীরগতির থাকলেও দ্বিতীয় দশক থেকে বাজারে বেশ চাঙাভাব ফিরেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের ভিড় এখন চোখে পড়ার মতো।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রীর দাম কিছুটা বেশি। দাম বেশি হলেও পছন্দের জিনিস কিনতে কার্পণ্য করছেন না বলে জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে বুধবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদের কেনাকাটা করতে পারে, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নানা বয়সী ক্রেতার ভিড়ে সরগরম উপজেলার বিভিন্ন বিপণিবিতান। ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা এলাকা থেকে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শামীমা সুলতানার সঙ্গে কথা হয় বারইয়ারহাট লাকি ফ্যাশন মলে।
শামীমা সুলতানা বলেন, এক জায়গায় সবকিছু পাওয়া যায় বলেই তিনি মূলত এখানে আসেন। বেশি জিনিস থাকায় এখানে পছন্দমতো সবকিছু পাওয়া যায় এবং একদাম হওয়াতে দরদামে খুব একটা সময় নষ্ট হয় না।
ক্রেতা টানতে উপজেলার বিপণিবিতানগুলোতে আলোকসজ্জার পাশাপাশি নিত্যনতুন পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও মার্কেটে পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেছে।
দেশীয় জামদানি, টাঙ্গাইল ও তাঁতের নতুন ডিজাইনের শাড়িসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে বেশ। ফ্যাশনের পাশাপাশি ঐতিহ্যতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন নারীরা। প্রচুর কালেকশনের পাশাপাশি দাম স্বাভাবিক থাকায় খুশি তারা।
দোকানগুলো শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, জুতা এবং বাচ্চাদের নানা রঙের কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বারিশ থ্রিপিস, দিল্লি বুটিকস, ছোট মেয়েদের নায়রা ও গাউনসহ নানা ধরনের আইটেম বেশি চলছে।
এবারের ঈদে শাড়ি কালেকশনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কানি সিল্ক, জামদানি, কোটা জামদানি ও হাড্ডি কাতান। থ্রিপিস কালেকশনের মধ্যে রয়েছে ফারসি, গাউন, পাকিস্তানি, লেহেঙ্গা, শারারা ও পাকিস্তানি সেলাই।
উপজেলার বড় ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র বারইয়ারহাটের মসজিদ গলির লাকী ফ্যাশন মল ও সেঞ্চুরী মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর বিপণিবিতানগুলো।
নতুন কালেকশনের মধ্যে রয়েছে ভাইরাল ও ফারসি। এছাড়া শারারা, আলিয়া কার্ড, সাদা বাহার, ওয়াকা, সাকিরা, তেরেনাম ও সোহানাসহ নানা ধরনের নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক রয়েছে বাজারগুলোতে।
ঈদকে ঘিরে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে বারইয়ারহাটের গ্রীণ টাওয়ারের অর্কিড, হোম প্লাস, সুলতান, আল আমিন মার্কেট, জমিদার মার্কেট, জোরারগঞ্জ, আবুরহাট, মিঠাছড়া, বামনসুন্দর দারোগাহাট, আবুতোরাব এবং মিরসরাই সদরের মোজাম্মেল অ্যান্ড আজিজুল টাওয়ার ও কাশেম শপিং কমপ্লেক্স।
শাড়ি ও থ্রিপিসের পাশাপাশি প্রসাধনী, পারফিউম, কসমেটিক সামগ্রী এবং জুতা কিনছেন ক্রেতারা। বারইয়ারহাট মসজিদ গলির হাসান সুজ, অহনা সুজ, আয়েশা সুজ, গ্রীন টাওয়ারে অবস্থিত লটো, বাটা, এপেক্স, বারইয়ারহাটের নূর সু গ্যালারি এবং মিঠাছড়ার জুতার হাট শোরুমে ভালো বিকিকিনি চলছে।
বিক্রির দিক থেকে এবারও শীর্ষে থাকতে পারে বারইয়ারহাটের ঐতিহ্যবাহী লাকি ফ্যাশন মল, মিঠাছড়ার খাজা ক্লথ ও আবুতোরাবের ভূঁইয়া ক্লথ স্টোর।
বারইয়ারহাট লাকি ফ্যাশন মলের স্বত্বাধিকারী মো. শামসুদ্দিন জানান, রমজানের প্রথমদিকে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে গতি বেড়েছে এবং রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে।
মো. শামসুদ্দিন আরও জানান, এবার লোকজনের ঝামেলা অন্য বছরের তুলনায় কম। তবে বেচাকেনা ভালো আছে এবং রমজানের শেষদিকে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন ও জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করার জন্য বড় বাজারগুলোতে পুলিশের টহল রয়েছে।
ফরিদা ইয়াসমিন ও কাজী নাজমুল হক আরও নিশ্চিত করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ছিনতাই রোধে থানা এলাকায় পুলিশের কয়েকটি টিম ভাগ হয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
