
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হলে বিদেশ যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য জানা, ভাষা শিক্ষা ও দক্ষ হওয়া অপরিহার্য।
একইভাবে বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের জন্য দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারি ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে সিলেট নগরীর হোটেল সুপ্রিমে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২) প্রকল্পের আওতায় অংশীজনদের নিয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ বলেন, বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।
পদ্মাসন সিংহ আরও বলেন, দক্ষতা নিয়ে বিদেশ গেলে যেমন সম্মান ও আয় বাড়ে, তেমনি ফিরে আসার পর সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশেই কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব।
এজন্য ব্র্যাকের মতো উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে পদ্মাসন সিংহ মন্তব্য করেন।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র অফিসার তানজিনা সুলতানা সেঁজুতি।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের ম্যানেজার আতিকুর রহমান নাহিদ।
আতিকুর রহমান নাহিদ ও তানজিনা সুলতানা সেঁজুতির উপস্থাপনার পর আলোচনায় বক্তারা বিদেশ থেকে খালি হাতে ফিরে আসা অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করেন এবং সেগুলোর সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহিনা আক্তার ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রফিক।
এ ছাড়া ব্র্যাকের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক রিপন চন্দ্র মন্ডলসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের রিজিওনাল এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর নূরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই কর্মশালায় আইনজীবী, বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি পদ্মাসন সিংহ ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের দুজন উপকারভোগীর হাতে তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানবপাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
